ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ , ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল পুনঃখননে কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়

নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট সময় : ২০২৬-০৭-২৩ ০৯:০৯:৩৫
নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল পুনঃখননে কোটি টাকার বেশি সাশ্রয় নাইক্ষ্যংছড়িতে খাল পুনঃখননে কোটি টাকার বেশি সাশ্রয়
হেলাল উদ্দীন (মিঞাজী)নাইক্ষ‍্যংছড়ি(বান্দরবান)প্রতিনিধিঃ


বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় দুটি খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়নেকোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে অবশিষ্ট এই অর্থ সরকারি বিধি অনুযায়ী সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। সঠিক পরিকল্পনা, নিয়মিত তদারকি ও স্বচ্ছ বাস্তবায়নের কারণে বরাদ্দকৃত অর্থের তুলনায় কম ব্যয়ে মানসম্মতভাবে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়ন ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নের দুটি খাল পুনঃখননের জন্য সরকার মোট ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। এর মধ্যে ১ কোটি ২০ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয় হয়। ফলে ১ কোটি ৩ লাখ ৮৩ হাজার টাকা সাশ্রয় হয়, যা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি খালের ৪ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হয়েছে।


এর ফলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হয়েছে, কৃষিজমির উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা নিরসনে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে। চলতি বছরের ৩ মে নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে এবং ১০ জুন সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকায় প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। কাজ চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. এনামুল হাসান নিয়মিত প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজের অগ্রগতি ও গুণগত মান পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কাজের গুণগত মান ও ব্যয়ের প্রতিটি খাত নিয়মিত তদারকি করা হয়। শ্রমিকদের মজুরি, যন্ত্রপাতি ব্যবহার, পরিবহনসহ সব ধরনের ব্যয় পরিশোধের পরও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ অব্যয়িত থাকে।


সরকারি বিধি অনুযায়ী সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) একাধিক সদস্য জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিয়মিত তদারকি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ফলে নির্ধারিত মান বজায় রেখেই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। সরেজমিনে স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে খাল দুটি দখল ও ভরাট হয়ে থাকায় পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছিল। এতে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে সেচ সংকট দেখা দিত। পুনঃখননের ফলে এখন পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং কৃষিকাজে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, এই দুটি খালের মাধ্যমে ৩০টিরও বেশি বিলের পানি নিষ্কাশন হয়। আগে জলাবদ্ধতার কারণে অনেক বিলে আমন ধান চাষ করা সম্ভব হতো না। খাল পুনঃখননের পর পানি দ্রুত নিষ্কাশন হওয়ায় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসও পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। সোনাইছড়ি ইউনিয়নের জারুলিয়াছড়ি এলাকার কৃষক মো. শাহজান এবং নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের কৃষক ছুরুত আলম বলেন, “খাল পুনঃখননের ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকবে না। দ্রুত পানি নিষ্কাশন হওয়ায় ফসলহানির আশঙ্কাও কমে যাবে।” উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “খাল পুনঃখননে সরকারি অর্থের কোনো অপচয় করা হয়নি। প্রয়োজনীয় ব্যয় শেষে অবশিষ্ট অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এনামুল হাসান বলেন, “সরকারি অর্থ জনগণের আমানত। তাই প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছি।


প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার পর যে অর্থ অবশিষ্ট ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারি সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণের কল্যাণে বরাদ্দকৃত প্রতিটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই প্রশাসনের অঙ্গীকার

নিউজটি আপডেট করেছেন : [email protected]

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ